ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানালেন ডা. জাহিদ

করোনা আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিন থেকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়েছে। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিমের সদস্য ও বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ২৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে কোভিড পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আছেন। এখানে ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করছেন। তার চিকিৎসা যথাযথভাবে চলছে। আজ ভোরের দিকে উনি একটু শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাদের সিদ্ধান্তে উনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।

 

শ্বাসকষ্টের বিষয়ে ডা. জাহিদ বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, মানুষের যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সেটা জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরে জানা যাবে। করোনারি কেয়ার ইউনিটে উনি আছেন। এ ইউনিটে যখন রোগী থাকে তখন তো স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই নেয়। উনি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান ডা. জাহিদ।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরে খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হয়েছিল কিন্তু ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান (চেস্ট), হৃদযন্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।